বিপর্যয় কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে ইন্ডিগো! নতুন নিয়ম মেনে ফেব্রুয়ারি থেকেই নিয়মিত পরিষেবার আশ্বাস
বিপর্যয় কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে ইন্ডিগো!
দীর্ঘ কয়েক মাসের বিঘ্নিত পরিষেবার পর অবশেষে ছন্দে ফিরছে ইন্ডিগো (IndiGo Service)। ভারতের বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA) জানিয়েছে, লাগাতার নজরদারি ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপের ফলে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে ইন্ডিগোর পরিষেবা। নতুন ফ্লাইট ডিউটি নর্মস (FDTL) মেনে চলার মতো পর্যাপ্ত পাইলটও এখন তাদের রয়েছে বলে জানিয়েছে। ডিসেম্বরের ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয়ের (IndiGo Service Disruption) জন্য ইন্ডিগোকে মোট ২২.২০ কোটি টাকা জরিমানা করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই খবর প্রকাশ করল ডিজিসিএ।
গত ১৯ জানুয়ারির রিভিউ মিটিংয়ে ইন্ডিগো (IndiGo) জানিয়েছে, ১০ ফেব্রুয়ারির পরের কার্যক্রম চালাতে পাইলটের কোনও ঘাটতি থাকবে না। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় এখন আরও বেশি পাইলট রয়েছে। ২ হাজার ২৮০-র জায়গায় ২ হাজার ৪০০ জন পাইলট-ইন-কমান্ড (PIC) রয়েছে এবং ২ হাজার ৫০ জনের জায়গায় বেড়ে ২ হাজার ২৪০ জন ফার্স্ট অফিসার রয়েছে।
ডিজিসিএ (DGCA) আরও জানিয়েছে, ডিসেম্বরের ৩ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে ইন্ডিগো বাতিল (IndiGo Flight Cancel) করেছিল ২ হাজার ৫০৭টি ফ্লাইট এবং দেরি হয়েছিল আরও ১ হাজার ৮৫২টি ফ্লাইট। এর ফলে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন প্রায় ৩ লক্ষ যাত্রী। এত বড় বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল, সংস্থার ক্রু ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি, অপর্যাপ্ত পরিকল্পনা, সফটওয়্যার ও অপারেশনস কন্ট্রোল সিস্টেমের দুর্বলতা এবং রোস্টার তৈরিতে ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল।
ডিজিসিএ জানিয়েছে, ইন্ডিগো তাদের পাইলট, বিমান এবং নেটওয়ার্ককে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্তভাবে ব্যবহার করছিল (IndiGo Flight Crisis)। ফ্লাইট রোস্টার এমনভাবে বানানো হয়েছিল যে তা ডিউটি সময়সীমার একেবারে শেষ সীমায় গিয়ে ঠেকেছিল। যেখানে ডেড-হেডিং, টেল-সোয়াপ ও বাড়তি দায়িত্বের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ছিল। ফলে রোস্টারের মধ্যে কোনও বাড়তি সময় বা সেফটি মার্জিন রাখা হয়নি, যা জরুরি পরিস্থিতিতে কাজে লাগার কথা। এই কারণেই পুরো অপারেশন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নতুন FDTL নিয়ম মানা ইন্ডিগোর জন্য আরও কঠিন হয়ে যায়।
সংকট কাটিয়ে উঠতে ডিজিসিএ ৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইন্ডিগোর অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে নিজেদের অফিসার মোতায়েন রাখে। দু'জন ফ্লাইট অপারেশনস ইনস্পেক্টর-সহ একাধিক দল প্রতিদিন নজরদারি চালায়, যাত্রী পরিষেবা ও নিয়ম মানার দিকগুলো পরীক্ষা করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জনস্বার্থে সাময়িক কিছু ছাড়ও দেওয়া হয়েছিল, তবে নিরাপত্তা কোনওভাবেই ব্যাহত হয়নি।
ইন্ডিগো ইতিমধ্যেই চারটি সাপ্তাহিক আর তিনটি অগ্রগতি-সংক্রান্ত রিপোর্ট ডিজিসিএকে জমা দিয়েছে এবং নিয়মিত রিভিউ মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছে। এদিকে ২২.২০ কোটি টাকার জরিমানা নেওয়ার পাশাপাশি সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স-সহ শীর্ষ কর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা দূর করতে ইন্ডিগোকে ৫০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টিও জমা দিতে বলা হয়েছে।