কমিশনকে কড়া চিঠি মমতার
বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ‘হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা’ ও কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়াই চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি পাঠালেন তিনি।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি, সার্কুলার বা আইনি নির্দেশ ছাড়াই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠছে বলেই মত নবান্নের। এই ধরনের অনিশ্চয়তা ভোটারদের নাম অকারণে বাদ পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে ভোটারদের নাম ‘ব্যাকএন্ডে’ মুছে ফেলা হচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়ায় তাঁদের অনেক ক্ষেত্রেই অন্ধকারে রাখা হচ্ছে বলে দাবি।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিহারে যে নথিগুলি SIR-এর সময় বৈধ হিসেবে মানা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে হঠাৎ করেই সেগুলি অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। এমনকি রাজ্য সরকারের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্রও ভোটার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এতে পরিযায়ী শ্রমিকদের অযথা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শুনানির জন্য ভোটারদের ডাকা হলেও কী নথি আনতে হবে, তা আগাম জানানো হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই জমা দেওয়া কাগজের কোনও রসিদও দেওয়া হচ্ছে না। বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) শুনানি প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ায় পুরো ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগেও রাজ্যের প্রস্তাবিত তালিকা উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে দাবি নবান্নের। অভিজ্ঞতাহীন কেন্দ্রীয় কর্মীদের এই দায়িত্ব দেওয়ায় গোটা প্রক্রিয়ার উপর মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মত মুখ্যমন্ত্রীর।