রঙিন প্রত্যাবর্তন,বাঁচতে গেলে লড়তে হয়
সামনের রঙের উৎসব। তাইদিন-রাত এক করে আবিরকে রঙিন করার কাজ করে চলেছেন এঁরা। দেখে বোঝার উপায় নেই গত অক্টোবরে উত্তরবঙ্গের ভয়াল বন্যার গ্রাস এদের জীবনের সমস্ত রঙ মুছে দিয়েছিল। তারপরেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কাছে হার না মেনে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন শিলিগুড়ির পোড়াঝাড়ের এই মহিলারা। পালং শাক, গাজর, বিট, জবা ফুল ও কাঁচা হলুদের মতো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তারা তৈরি করে চলেছেন সম্পূর্ণ ভেষজ আবীর। লাল, হলুদ, সবুজ, কমলা—সব রঙই ত্বকবান্ধব ও ভেজালমুক্ত। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে ‘শিলিগুড়ি ইউনিক ফাউন্ডেশন’। গত ছয় বছর ধরে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ‘বিদ্যাছায়া’ টিউশন সেন্টারের ছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকরা যুক্ত হয়েছেন এই কর্মকাণ্ডে।

পোড়াঝাড়ের বহু বাড়িতেই এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ততা। বন্যাকবলিত এলাকার মহিলাদের হাতে তৈরি বলেই ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে। আগে সীমিত আকারে আবীর তৈরি হলেও এ বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন মহিলাকে নিয়ে বড় পরিসরে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে দুই কুইন্টালেরও বেশি আবীর তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল, বিএসএফ ও সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে অর্ডার এসেছে। দাম সাধারণের নাগালে হওয়ায় অর্ডার আসছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও।

তাতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন বন্যায় সর্বশান্ত হওয়া মানুষগুলো।
বন্যা-বিপর্যন্ত মানুষগুলোকে অনিশ্চয়তার স্রোতে ভেসে যেতে না দিয়ে, ‘শিলিগুড়ি ইউনিক ফাউন্ডেশন’-এর স্বাবলম্বী করার এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে । ভেষজ আবিরের হাত ধরে -স্বনির্ভরতার পথ রঙিন করার স্বপ্ন দেখছেন এই মহিলারা।