হাসপাতালে আয়ুশ উদ্যোগ
হাজার বছরের প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ আজও দেশে-বিদেশে সমাদৃত। একসময় ঔষধি গাছই ছিল রোগ নিরাময়ের প্রধান ভরসা। আধুনিক চিকিৎসার অগ্রগতিতে তা কিছুটা আড়ালে পড়েছে ঠিকই। তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ভেজাল ওষুধের হাত থেকে রেহাই পেতে মানুষ আবারও ঝুঁকছে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার দিকে। আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথি—এই পাঁচ পদ্ধতি নিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় সরকারের AYUSH।
বিকল্প চিকিৎসার প্রসারে উদ্যোগ নিতে Ministry of AYUSH এর তরফ থেকে সরকারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে লাগানো হচ্ছে ভেষজ গাছ।দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর হাসপাতালেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি আয়ুশ ভেষজ উদ্ভিদ বাগান। ইতিমধ্যেই শতাবরী, তুলসী ও অনন্তমূল-সহ বিভিন্ন ভেষজ গাছ লাগানো হয়েছে। প্রতিটি গাছের পাশে তথ্যসম্বলিত প্ল্যাকার্ড বসানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই গাছগুলি চিনতে পারেন।

এর ফলে হাসপাতালের সবুজায়ন যেমন বাড়বে, তেমনই সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন যে প্রকৃতিতেই লুকিয়ে আছে রোগ নিরাময়ের উপায়। আশেপাশের সাধারণ গাছপালার আয়ুর্বেদিক গুরুত্ব সম্পর্কেও তাদের ধারণা তৈরি হবে। তাই এই উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই খুশি রোগী ও তাদের পরিবার। কথায় আছে, “Old is gold।” শতাব্দীপ্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা সত্যিই এক সোনার খনি। প্রাচীন জ্ঞান ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমন্বয় হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হবে - একথা বলাই বাহুল্য। তাই মথুরাপুরের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই অভিনব উদ্যোগের সুফল চাক্ষুষ করার জন্য।