‘বিচারাধীন’ তালিকায় বিধায়কের নাম!
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের জাখিরপুর এলাকার বাসিন্দা তোরাফ হোসেন মন্ডল। ২০১৬ ও ২০২১ সালে কুমারগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরপর দু’বার নির্বাচিত হন তিনি। ২০০২ সাল থেকেই তাঁর নাম রয়েছে ভোটার তালিকায়। ১৯৮০ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে প্রায় ৩৯ বছর কর্মজীবন কাটানোর পর ২০১৯ সালে অবসর নেন তোরাফ হোসেন। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর হেয়ারিংয়ে ডেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি—পেনশনের কাগজ থেকে নাগরিকত্বের প্রমাণ—জমা দেওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তিনিই নন, কুমারগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষের নাম রয়েছে এই বিচারাধীন তালিকায়।

পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও শুধুমাত্র তাঁর নাম বাদ পড়ায় এটিকে নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেই অভিযোগ তুলেছেন বিধায়ক। তবে বিধায়কের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, এটি কোনও প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলেই এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে তোরাফ হোসেন মন্ডলকে। এ বিষয়ে নির্বাচন দপ্তরের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই দ্রুত তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি তুলছেন, যাতে ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। কারণ ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তোরাফ হোসেন মন্ডল কীভাবে প্রার্থী হবেন, তা নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন কুমারগঞ্জের বিধায়ক।