গরম মানেই আমের রাজত্ব শুরু! কোনটা বিখ্যাত, কোথায় গেলে দেশের সবচেয়ে ভাল আম পাবেন? |
গুজরাতমুখী থাইল্যান্ডের জাহাজে আচমকা হামলা, উদ্ধার ২০ নাবিক
গুজরাতমুখী থাইল্যান্ডের জাহাজে আচমকা হামলা
আরব দুনিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীতে ফের নিরাপত্তা উদ্বেগ )Strait of Hormuz security concern)। বুধবার গুজরাতের উদ্দেশে রওনা দেওয়া থাইল্যান্ডের একটি পণ্যবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার (Strait of Hormuz cargo ship attac) ঘটনা ঘটেছে। আঘাতের পর জাহাজে আগুন ধরে যায়।
দ্রুত উদ্ধার অভিযানে ২৩ জন নাবিকের মধ্যে ২০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। তবে ঠিক কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল তা জানা যায়নি (Gujarat bound Thai ship Mayuree Naree attack)।
বুধবারের এই ঘটনার কথা জানিয়েছে ব্যাংকক পোস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়ূরী নারী (Mayuree Naree) নামের ওই থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটি গুজরাতের দিকে যাচ্ছিল। হামলার সময় জাহাজটি ওমানের উত্তর উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।
অজ্ঞাত অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ
হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে রয়্যাল থাই নেভি (Royal Thai Navy) এবং ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (United Kingdom Maritime Trade Operations)। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১১ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি যাচাই করে নিশ্চিত করা হয় যে জাহাজটি ময়ূরী নারী। জাহাজটির ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (International Maritime Organisation) বা IMO নম্বর, কাঠামো এবং আগের সংরক্ষিত ছবির সঙ্গে মিলিয়ে এই পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
মেরিটাইম তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির মালিকানা রয়েছে প্রেসিয়াস শিপিং (Precious Shipping)-এর হাতে।
আঘাতের পরই জাহাজে আগুন
প্রজেক্টাইলের আঘাতের পরপরই জাহাজে আগুন ধরে যায়। যদিও পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সামুদ্রিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালায় রয়্যাল নেভি অফ ওমান (Royal Navy of Oman)। সেই অভিযানে জাহাজে থাকা ২৩ জন নাবিকের মধ্যে ২০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এখনও তিন জন নাবিক জাহাজেই রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা বা জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জাহাজের অবস্থান কীভাবে নিশ্চিত হল
বিভিন্ন সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি ওমানের উত্তর উপকূলের কাছেই ছিল।
১১ মার্চের ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, জাহাজটির শেষ অবস্থান ধরা পড়ে ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল দূরে, যা হরমুজ প্রণালীর মধ্যেই পড়ে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে।
হামলার অস্ত্র এখনও অজানা
এই হামলায় ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে ঘটনাটিকে অনেকেই ইরানকে ঘিরে চলা আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখলেও এখনও পর্যন্ত কোনও দেশ বা সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।