বৃহস্পতিবার ইডির মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট
আইপ্যাকে ইডি অভিযানের (IPAC ED Raid) পর আগেভাগেই সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছিল রাজ্য সরকার। তার পরপরই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় ইডি। বুধবারই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে।
শুনানির সময় ইডি-র তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট কিংবা সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতর থেকে ইডি (ED Raid at IPAC) কোনও নথি বা ডিজিটাল এভিডেন্স বাজেয়াপ্ত করেনি। তাঁর দাবি, যে কাগজপত্র ওই জায়গাগুলি থেকে সরানো হয়েছে, তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই করা হয়েছে।
এই বক্তব্য শোনার পর তৃণমূলের আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, ইডি (ED) যদি অন রেকর্ড স্বীকার করে যে তারা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি, তা হলে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) এই মামলাটি নিষ্পত্তি করতে পারে। জবাবে এসভি রাজু ফের বলেন, ইডি কোনও নথি বা ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেনি - এই অবস্থান তারা অন রেকর্ডেই জানাচ্ছে।
ইডি-র অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে আইপ্যাকে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হস্তক্ষেপ। সংস্থার দাবি, তদন্ত চলাকালীন কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই গুরুত্বপূর্ণ নথি সরানো হয়েছে। সেই কারণেই রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা নেই বলে সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছে ইডি।
ঘটনার দিন সকালে ইডি অভিযান শুরু হওয়ার খবর পেয়ে প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার। কিছু সময় পরে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা যায়। সেখান থেকেই তিনি যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে, যেখানে তল্লাশি চলাকালীন তাঁর উপস্থিতি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
বুধবার হাইকোর্টে দীর্ঘ সওয়ালে এসভি রাজু আরও জানান, একই বিষয় নিয়ে ইডি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলা শীর্ষ আদালতের বিবেচনাধীন। প্রথা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের এই মামলায় আর এগোনো উচিত নয়। শীর্ষ আদালত যদি মামলাটি ফের হাইকোর্টে পাঠায়, তখনই কেবল এখানে শুনানি হতে পারে - এই যুক্তিতেই হাইকোর্টে অপেক্ষার আবেদন জানায় ইডি।