মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান
'সব তীর্থ বারবার/ গঙ্গাসাগর একবার!' হিন্দুদের মধ্যে এই প্রবাদের বিশেষ প্রাধান্য রয়েছে। তাই হয়তো প্রতিবারের মতো এবারেও গঙ্গাসাগর মেলায় (Gangasagar mela) পুণ্যার্থীদের ভিড় চোখের পড়ার মতো। বুধবার মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে সেই মাহেন্দ্রক্ষণে স্নান সারবেন তাঁরা। মেলাকে ঘিরে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণের পাশাপাশি গঙ্গাসাগরে এসেছেন বহু সন্ন্যাসীও।
গত সপ্তাহে গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এরপরই প্রথম দিন থেকেই প্রচুর মানুষ আসছেন এই তীর্থস্থানে। কেউ পরিবার নিয়ে কেউ একা, সকলেই আসছেন একটু শান্তির খোঁজে।
মকর সংক্রান্তির স্নানের (Makar Sankranti) আগের দিনই বিপুল সংখ্যায় ভক্তের সমাগম হয়েছে। এক পুণ্যার্থী জানিয়েছেন, 'গঙ্গাসাগরে আসা পুণ্যের বিষয়। এখানে এসে আমার মন ও শরীরে মনে হচ্ছে শক্তি সঞ্চয় হয়েছে।'
হিন্দুদের কাছে গঙ্গাসাগরের (Ganga Sagar) মাহাত্ম্য অনেক। গঙ্গাসাগর (Gangasagar mela) ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিন্দু মেলা। বিশ্বাস করা হয়, একজন ভক্ত সব তীর্থ ঘুরে ঘুরে যে পুণ্য অর্জন করেন, তা গঙ্গাসাগরের তীর্থে একবার গেলেই পেয়ে যান।
জ্যোতিষশাস্ত্রে মকর সংক্রান্তিতেও স্নানের গুরুত্ব রয়েছে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, মকর সংক্রান্তি শুরু হয় যখন সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করে এবং প্রায় এক মাস সেখানে অবস্থান করে। সূর্যের এই রাশি পরিবর্তনের বিশেষ জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গুরুত্ব রয়েছে, কারণ মকর হল শনিদেবের অধিষ্ঠিত রাশি। শনি ও সূর্যের মধ্যে সম্পর্ক সাধারণত বিরোধপূর্ণ বলেই ধরা হয়- শনি হল সূর্যের পুত্র, তবুও দু’জনের মধ্যে মতানৈক্যের কথা বহু পুরাণে উল্লেখ আছে।
তবে মকর সংক্রান্তির সময় এই টানাপোড়েন দূরে সরে যায়। বিশ্বাস করা হয়, সূর্য এ সময় পুত্র শনির প্রতি অভিমান ভুলে মিলনের পথ তৈরি করেন। সেই কারণেই এই সময়কে শুভ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়। উৎসবটি শুধু ঋতু পরিবর্তনের নয়—এটি সম্পর্কের সৌহার্দ্য, সমঝোতা ও নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
মকর সংক্রান্তি শীতের দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষ এবং নতুন ফসল তোলার সূচনার প্রতীক। হিন্দু সংস্কৃতিতে এই দিনটিকে শুভ ‘উত্তরণ’ পর্ব হিসেবে মানা হয়, যখন সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করে নতুন শুরুর বার্তা নিয়ে আসে। এই সময় থেকেই দিন বড় আর রাত ছোট হতে শুরু করে।
এবারের গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন প্রযুক্তির ব্যবহার করছে প্রশাসন। ২০২৬ সালের গঙ্গাসাগর মেলায় প্রথমবার মোতায়েন হয়েছে অত্যাধুনিক ওয়াটার ড্রোন বা রেসকিউ ড্রোন, যা সমুদ্রসৈকতজুড়ে নজরদারি থেকে শুরু করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজে বড় ভূমিকা নেবে।