সোনার দামে যেন লাগামছাড়া গতি
সোনার দামে (Gold Price) যেন লাগামছাড়া গতি। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কার্যত দ্বিগুণ হয়ে গেল সোনার দর। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি কলকাতায় প্রতি ১০ গ্রাম গহনা সোনার (22 carat ) দাম ছিল ৭৫,৫৫০ টাকা, আর পাকা সোনার (24 carat) দাম ছিল ৮২,৪২০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কলকাতায় সেই গহনা সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪৬,৯০০ টাকা, আর প্রতি ১০ গ্রাম পাকা সোনার দাম পৌঁছেছে ১,৬০,২৬০ টাকা।
অর্থাৎ এক বছরের মধ্যেই সোনার দামে প্রায় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এই হারে দাম বাড়তে থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সোনার দর প্রতি ১০ গ্রামে ৩ লক্ষ টাকা ছুঁয়ে ফেলতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন। যদিও সেই ভবিষ্যদ্বাণী কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে বড় প্রশ্ন—চলতি বছরের মধ্যেই কি সোনার দাম ২ লক্ষ টাকা ছুঁতে পারে?
উপরে উল্লিখিত দামে পণ্য ও পরিষেবা কর (GST on Gold) ধরা হয়নি। ৩ শতাংশ জিএসটি যোগ করলে আজ কলকাতায় প্রতি ১০ গ্রাম গহনা সোনার প্রকৃত দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৮০ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে কী ইঙ্গিত?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের মতোই ২০২৬ সালেও সোনা ও রূপার দামের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় সোনার দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দামের উপর।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া বাজার মিলিয়ে সোনার দাম ইতিমধ্যে যেমন প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ছুঁয়েছে, তেমনই রূপার দামও রেকর্ড গড়ে প্রতি কেজিতে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ছাড়িয়েছে।
২০২৬ সালে দাম কোথায় যেতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে—সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১.৫ লক্ষ থেকে ১.৯৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে। রূপার দাম প্রতি কেজিতে ২.৮ লক্ষ থেকে ৩.৮ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ে, তাহলে এই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
কেন এত দ্রুত বাড়ছে সোনার দাম?
বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণের দিকে ইঙ্গিত করছেন—আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সোনা মজুতের উপর জোর দিচ্ছে। শিল্পক্ষেত্রে, বিশেষ করে সৌর শক্তি ও ইলেকট্রনিক্সে রূপোর চাহিদা বৃদ্ধি। রূপোর সরবরাহ ঘাটতি ও বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ। এই সব কারণ মিলিয়েই সোনা-রূপার দামে লাগাতার চাপ তৈরি করছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা?
বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—সোনার দামে বড় ওঠানামা হতে পারে, তাই ধাপে ধাপে ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। দাম সাময়িক কমলে সেটিকে কেনার সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, চলতি বছরেই সোনার দাম ২ লক্ষ টাকা ছোঁবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা না গেলেও বাজারের গতিপ্রকৃতি বলছে—সোনার দৌড় এখনও থামার লক্ষণ নেই। বিশ্ব অর্থনীতি, মার্কিন ডলার, সুদের হার ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিই ঠিক করবে, আগামী দিনে সোনা ঠিক কতটা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।