তৃণমূলকে বিঁধলেন মিঠুন
রাজনৈতিক মঞ্চে উঠলেই মিঠুন চক্রবর্তীর (Mithun Chakraborty) ভাষণ আলাদা করে নজর কাড়ে। শ্রোতারা শুধু বক্তব্য শোনেন না, সিনেমার সংলাপের অপেক্ষাতেও থাকেন। আর ফিল্মি কায়দাতেই নিজের রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে অভ্যস্ত বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। শনিবারের সভায় নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সংলাপের মধ্যে দিয়েই তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি।
সভায় উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সামনে মিঠুন প্রশ্ন তোলেন - তৃণমূল কংগ্রেস আসলে কী? নিজেই তার ব্যাখ্যা দেন, ‘টেরর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি’ (Terror Manufacturing Company) । তাঁর অভিযোগ, ভয় আর আতঙ্ক ছড়ানো ছাড়া তৃণমূলের আর কোনও কর্মসূচি নেই। দুর্নীতিই তাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সেই কারণেই রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ থমকে গিয়েছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। মিঠুনের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি - সব ক্ষেত্রেই রাজ্য পিছিয়ে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, যখন সমস্ত মনোযোগ দুর্নীতিতে, তখন উন্নয়ন স্বাভাবিক ভাবেই থমকে যায়।
আগের সভাগুলির মতোই এ দিনও মিঠুন তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাকে ‘পশ্চিমবাংলাদেশ’ (West Bangladesh) বানানোর পথে হাঁটছেন। দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পুলিশের লাঠিচার্জ, লগ্নজিতা চক্রবর্তীর গান ঘিরে বিতর্ক, কিংবা অমিত শাহকে বাংলায় ঢুকতে না দেওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য - এই সব প্রসঙ্গ তুলে মিঠুন বলেন, পরিস্থিতি দেখে তাঁর মনে হয় তিনি বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। এই অবস্থায় রাজ্যের মানুষকে নিজেদের বিবেক জাগ্রত করার আহ্বান জানান তিনি।
মিঠুনের বক্তব্যে শুধু বিজেপি কর্মীদের নয়, রাজনীতির বাইরে থাকা সাধারণ মানুষদেরও একজোট হওয়ার ডাক ছিল। পাশাপাশি কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের হিন্দু কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশেও তিনি আবেদন জানান। তাঁর মতে, হিন্দুত্ব ও বাঙালিত্ব রক্ষা করতে হলে বর্তমান সরকারের পতন অপরিহার্য।
কয়েক দিন আগে চন্দননগরের সভা থেকে মিঠুন অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে সরকার কার্যত ‘ছুট’ দিয়ে রেখেছে - যা খুশি করা যাবে, কেউ বাধা দেবে না। এ দিনও সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাংলার মানুষকে এক ছাতার তলায় আসার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন, বিজেপি কোনওভাবেই ভারতীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়। যারা দেশকে ভালবাসেন, দেশের স্বার্থে ভাবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপির কোনও আপত্তি নেই। তবে তাঁর অভিযোগ, যারা দেশের ক্ষতি চায়, তৃণমূল তাদেরই রক্ষা করছে।
সভা শেষে মিঠুনের হুঙ্কার ছিল আরও তীব্র। তাঁর কথায়, যতদিন শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকবে, ততদিন কেউ বাংলাকে বাংলাদেশ বানাতে পারবে না। সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, খুব শিগগিরই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।