শাহের পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ মমতার
বাংলা (West Bengal) থেকে নিয়ে যাওয়া ‘এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত’ (SIR West Bengal) পরিবারের সদস্যদের হেনস্থার অভিযোগ পেয়েই গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। খবর পেয়েই ঘরের শাড়ি না বদলিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে ছুটে গেলেন দিল্লির বঙ্গভবনে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীন দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
বঙ্গভবন ঘিরে দিল্লি পুলিশ
পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ। শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল। দলের অভিযোগ, এসআইআরের চাপে বাংলায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, বহু মানুষ কার্যত ‘জীবিত হয়েও মৃত’ হয়ে গিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের নথিতে।
সেই সব পরিবারের কয়েক জন সদস্যকে নিয়েই দিল্লিতে গিয়েছেন মমতা। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বঙ্গভবনে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের অস্বাভাবিক তৎপরতা নজরে আসে। অভিযোগ, এলাকা কার্যত পুলিশে ঘিরে ফেলা হয়, বঙ্গভবনের ভিতরেও ঢুকে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই খবর পেয়েই আর সময় নষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী।
‘এটা আমাদের ভবন, ওরা ঢুকতে পারে না’
বঙ্গভবনে পৌঁছে প্রথমেই এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন মমতা। পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের আশ্বাস দেন। ভিতরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও চিন্তা করবেন না। আমি তো আছি।”
এর পর বঙ্গভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবনে ঢুকে ঘরে ঘরে সার্চ করছে। ওখানে বাংলার মানুষ থাকছেন। এটা তো আমাদের ভবন। ওরা এটা করতে পারে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এসআইআরের কারণে যাঁদের পরিবারে মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিজনদের নিয়েই তিনি দিল্লিতে এসেছেন। পাশাপাশি এমন মানুষও রয়েছেন, যাঁরা জীবিত থাকলেও কমিশনের খাতায় মৃত বলে নথিভুক্ত।
দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি
ঘটনার পর দিল্লি পুলিশকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন মমতা। বলেন, “আমাকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। ভাবলে ভুল হবে। অনেক দূর দূর থেকে আমরা ওঁদের নিয়ে এসেছি। ওঁদের ভয় দেখানো যাবে না। আমি রাতে যে শাড়ি পরি সেই পোশাকও ছাড়িনি। যা পরেছিলাম, তা-ই পরে অভিষেককে নিয়ে চলে এসেছি।”
বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে কথা বলতেও দেখা যায়। আগেও দিল্লিতে বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, “সংযত হোন। বাংলার মানুষকে এ ভাবে হেনস্থা, নির্যাতন করবেন না। অনেকে মারা গিয়েছেন। অনেকে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। আমাদের গায়ের জোর দেখাবেন না।”