রাষ্ট্রপতির বঙ্গ সফরে কোন কোন গাফিলতি দিল্লির নজরে
স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে কৌতূহল জাগতে পারে, রাষ্ট্রপতির সফরে কী এমন গাফিলতি ধরা পড়েছে, যার জন্য কৈফিয়ত চেয়েছে শাহের মন্ত্রক।Droupadi Murmu ইস্যুতে কত দূরই বা যেতে পারে তারা? সে প্রসঙ্গে আসার আগে ঘটনার ঘনঘটা জানা প্রয়োজন।
গত শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে এসে রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। বলেছিলেন, “আমি বাংলার মেয়ে, অথচ আমাকেই বাংলায় আসতে দেওয়া হয় না।”
জবাবে কলকাতার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, তিনি রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানের কথা জানতেনই না। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফর সম্পর্কে অবহিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা কারা, কী নিয়ে এই অনুষ্ঠান, এ সব নিয়ে তাঁর ধারণাই ছিল না। কিন্তু এখানেই বিতর্ক থেমে থাকেনি। অচিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। পরে মৌখিকভাবেও মমতার সরকারের ভূমিকার নিন্দা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে।
সেই ক্ষোভের রেশ ধরেই তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতির সফরে যে ৫টি ‘গাফিলতি’ শাহের মন্ত্রকের নজর কেড়েছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন:
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রথম নজর পড়েছে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের স্থান বদলে। তার পরেই রয়েছে প্রোটকল ভাঙার বিষয়টি। যে কারণে শিলিগুড়ির সিপি ও দার্জিলিংয়ের জেলাশাসককে ডেপুটেশনে চাওয়া হয়েছে।
- দ্বিতীয় গাফিলতি, রাষ্ট্রপতি যে রাস্তা দিয়ে গেছেন, সেই রাস্তায় ন্যূনতম যা নিরাপত্তা থাকা দরকার, তার সিকিভাগও ছিল না। এমনটাই রিপোর্ট পেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যারিকেডিং। রাষ্ট্রপতি যাওয়ার পথে গলি বন্ধ করে রাখার কোনও বালাই ছিল না। বরং সেখানে সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। কেন্দ্র বলছে, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার বিষয়ে এদের থাকার কথাই নয়। অথচ এক-দুই নয়, বেশ কয়েক কিলোমিটার রাস্তায় তাদেরই দেখা গেছে।
- তৃতীয় গাফিলতি, রাষ্ট্রপতি যে রাস্তা দিয়ে যাবেন, নিয়ম হল সেই রাস্তা পরিষ্কার রাখা। অথচ পরিষ্কার তো দুরস্ত, সাফ-সাফাইয়ের কোনও বালাই-ই ছিল না।
- চতুর্থ গাফিলতি, যে কার্পেটের উপর দিয়ে রাষ্ট্রপতির হেঁটে যাওয়ার কথা, সেই কার্পেটও নাকি ছিল পুরনো।
- পঞ্চম গাফিলতি, কথা ছিল, রাষ্ট্রপতি যখন আসবেন, তখন দুশো চেয়ারের মধ্যে ৫০ জন বসে ছিলেন। ১৫০ চেয়ারই ফাঁকা ছিল। সূত্রের খবর, তখন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি লোকাল পুলিশকে বলে চেয়ারে লোকজন বসানোর জন্য। তখন নাকি সেই পুলিশকর্মীরা বলেন, তাঁরা ওই এলাকার নন। কেবল ডিউটি করতে এসেছেন। লোককে চেয়ারে বসানোর দায়িত্ব আমরা নিতে পারব না। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, রাষ্ট্রপতি যেখানে অনুষ্ঠান করলেন, সেখানে লোকাল এসপি, ওসিরা কোথায় ছিলেন?
- শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না, তিনি না থাকলেও কেন কোনও মন্ত্রী বা পদস্থ পুলিশ কর্তারা ছিলেন না, সেটারও কৈফিয়ত চাইতে পারে শাহের মন্ত্রক।
বিতর্ক দানা বাঁধতেই অবশ্য তৎপর হয়েছিল নবান্ন। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে একগুচ্ছ নথি পাঠিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা একটি বেসরকারি সংস্থা হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে কিছু ধোঁয়াশা ছিল। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী কেন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তারও কারণ দর্শানো হয়েছে। তবে নবান্নের এই ব্যাখ্যায় যে দিল্লি সন্তুষ্ট নয়, দুই শীর্ষ আধিকারিককে ডেপুটেশনে তলব করা তারই প্রমাণ।