বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন দিলীপ ঘোষ?
দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নিজের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির (BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। স্পষ্ট জানালেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, তা পুরোপুরি দলের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে।
বুধবার কলকাতায় (Kolkata) দলের সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। সল্টলেকের একটি হোটেলে হওয়া সেই বৈঠকে যাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়, তাঁদের মধ্যে সবথেকে চমকপ্রদ নাম ছিল দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh News)! ওই বৈঠকে হাজিরও হন তিনি।
বৃহস্পতিবার দিলীপ বলেন, “অমিত শাহ বলেছেন, সবাইকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। আমিও জানতে চেয়েছি, আমাকে নিয়ে দলের কী ভাবনা। ২০২৬-এ প্রার্থী হব কি না, সেটাও দলই ঠিক করবে। দল যদি মনে করে আমাকে প্রার্থী করলে লাভ হবে, তবেই করবে। খড়্গপুরে প্রার্থী হব কি না, সেটাও দলের সিদ্ধান্ত।”
দলের অন্দরে ‘আদি-নব্য’ বিতর্ক প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, বিজেপি এখন আগের তুলনায় অনেক বড় হয়েছে। তাঁর কথায়, “পার্টির কলেবর বেড়েছে। আদি-নব্য বলে কিছু নেই। অনেকেই আছেন যাঁরা আমার থেকেও পুরনো, যেমন শমীকদা। আবার নতুন যাঁরা আসছেন, তাঁদের দায়িত্ব দলের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে প্রকৃত অর্থে বিজেপি হয়ে ওঠা।”
নিজের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “দল যদি আমাকে সঙ্গে থাকতে বলে, আমি অবশ্যই থাকব। নির্বাচনের জন্য নিশ্চয়ই একটি টিম তৈরি হবে। যে ভাবেই হোক, আমি সেই টিমেরই অংশ থাকব।”
এদিকে, আগামী ১৩ জানুয়ারি দুর্গাপুরে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে একই মঞ্চে থাকার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, স্থানীয় বিধায়ক লক্ষণ ঘোরুই একটি বৈঠকে এসে শমীক ভট্টাচার্যকে সময় দিতে অনুরোধ করেন। সেই অনুযায়ী শমীক ভট্টাচার্য ১৩ তারিখ সময় দিয়েছেন এবং দিলীপকেও ওই দিন মঞ্চে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। দিলীপ বলেন, “শমীকদা আমাকেও সেদিন মঞ্চে থাকতে বলেছেন। আমি থাকব।”
জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে উপস্থিত থাকার পর সরাসরি নাম না করেই শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। বিরোধী দলনেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা রাজনৈতিক মহলে অজানা নয়। তবে সেই সময় দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন দিলীপ। এরপর থেকেই রাজ্য বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দলীয় সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের নির্দেশ এসেছিল দিল্লি থেকেই। জানানো হয়েছিল, দিলীপ ঘোষকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই।
তবে দূরত্ব তৈরি হলেও তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে। এখনও তিনি দলের বরাদ্দ গাড়িই ব্যবহার করছেন। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বিভিন্ন জায়গায় সফরের সময় দল নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দিলীপ। প্রতিবারই তিনি একই কথা জানিয়েছেন— দল যে দায়িত্ব দেবে, তা তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন।