‘ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিলেন, লজ্জা করে না
ভারত-আমেরিকা (India US Trade Deal) অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে লোকসভায় চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ (Congress Leader) তথা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, মূল্য-সংবেদনশীল কৃষি ও দুগ্ধ বাজার আমেরিকার জন্য খুলে দিয়ে কেন্দ্র কার্যত “ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছে”। তাঁর প্রশ্ন, “দেশ বিক্রি করে দিতে লজ্জা করে না?”
রাহুলের দাবি, এই চুক্তির ফলে কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষির জীবিকা বিপন্ন হবে। তাঁর বক্তব্য, আগে গড়ে যেখানে আমেরিকার শুল্কহার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ (মোস্ট-ফেভার্ড নেশন বা এমএফএন ভিত্তিতে), নতুন চুক্তিতে তা বেড়ে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে— “ছ’গুণ বৃদ্ধি।” ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ‘রেসিপ্রোকাল’ শুল্ক ঘোষণার সময় তা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ ‘পেনাল্টি’ আরোপের প্রসঙ্গও তোলেন।
রাহুলের আরও অভিযোগ, এই চুক্তিতে আমেরিকার পণ্যের আমদানি ৪৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। অন্য দিকে, একটি ধারায় ভারতের তরফে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির কথা রয়েছে বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, “ওদের কাছে আমাদের কোনও প্রতিশ্রুতি নেই, আমাদেরই শুধু প্রতিশ্রুতি। আমরা বোকাদের মতো দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের শুল্ক ১৮ শতাংশে উঠেছে, আর তাদেরটা ১৬ শতাংশ থেকে শূন্যে নেমে এসেছে।” তাঁর কথায়, “দেশের ইতিহাসে কোনও প্রধানমন্ত্রী এমন করেননি।”
এ সময় সংসদীয় কাজকর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু হস্তক্ষেপ করে রাহুলকে তথ্য-প্রমাণ পেশ করার চ্যালেঞ্জ জানান। তাঁর দাবি, ২০১৪-র আগে কংগ্রেসই দেশকে দুর্বল করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে “সবচেয়ে শক্তিশালী” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাহুলের আক্রমণের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকাশিত একটি ‘ফ্যাক্টশিট’ সংশোধন করেছে। আগের নথিতে যে সব মার্কিন কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল, তার তালিকা থেকে ‘কিছু ডাল’ (certain pulses) শব্দবন্ধটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগের খসড়ায় ড্রাইড ডিস্টিলার্স’ গ্রেন, রেড সর্গাম, ট্রি নাটস, ফল-প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন প্রভৃতির পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ডালের উল্লেখ ছিল।
রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর কৃষিক্ষেত্র ভারতের জিডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে রয়েছে। পরামর্শদাতা সংস্থা ম্যাকিন্সির হিসাবে, দেশের কৃষি বাজারের আকার বর্তমানে ৫৮০ থেকে ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।
এর আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও এই চুক্তির কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, এতে ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, কৃষক, পশুপালন ও বস্ত্রশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে চুক্তি ঘোষণার পর কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কৃষিক্ষেত্র পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের বক্তব্য, যে সব ক্ষেত্রে ভারত স্বয়ংসম্পূর্ণ, সেগুলি চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।