কুনোর জঙ্গলে জ্বালল নতুন আশার প্রদীপ
দ্বিতীয়বারের জন্য গরবিণী মা। আফ্রিকার নামিবিয়ার চিতা ‘আশা’ আবার মা হল শনিবার। মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে জন্ম দিল পাঁচটি শাবকের। ভারতের প্রোজেক্ট চিতা অভিযানে যুক্ত হল আরও কয়েকটি আফ্রিকান প্রজাতির খুদে চিতাশাবকের। কুনোর গহন অরণ্যে ফের গায়ে ডোরাকাটা চারপেয়েদের ছুটে চলার নতুন স্বপ্ন ভূমিষ্ঠ হল। প্রকৃতির বুকে পাঁচটি একরত্তি দুধের শিশুর আগমন শুধু একটি সাধারণ জন্মের খবর নয়— এ ভারতের বিলুপ্ত চিতাদের পুনর্জন্মের আরেকটি প্রতীক। এই নতুন শাবকদের নিয়ে দেশে চিতার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫-এ।
এক্স-এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব লেখেন, এটি প্রোজেক্ট চিতার জন্য ‘অসীম গর্ব ও আনন্দের মুহূর্ত’। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কুনো জাতীয় উদ্যানে পাঁচটি শাবকের জন্ম দিয়েছে আশা। দ্বিতীয়বারের মা। এই নিয়ে ভারতে জন্ম নেওয়া জীবিত চিতা শাবকের সংখ্যা পৌঁছল ২৪। এটি ভারতের মাটিতে অষ্টম সফল চিতা সংরক্ষণ অভিযানের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মন্ত্রী আরও লেখেন, এই সাফল্য জঙ্গলে কর্মরত বনকর্মী ও পশু চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, দক্ষতা ও নিষ্ঠার উজ্জ্বল প্রমাণ। তাঁর কথায়, আশা ও তার শাবকেরা যেন সুস্থ থাকে, বেড়ে ওঠে, আর ভারতের চিতা-প্রজন্মকে আরও দূরে নিয়ে যায়।
এক সময় ভারতের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি ও অরণ্যে অবাধে বিচরণ করত চিতা। কিন্তু নির্বিচার শিকার আর জনবসতি গড়ে ওঠায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত ১৯৫২ সালে ভারতে চিতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সাত দশক পর, ২০২২ সালে শুরু হয় প্রোজেক্ট চিতা। হারিয়ে যাওয়া এই দ্রুততম গতির প্রাণীকে ফিরিয়ে আনার এক সাহসী প্রয়াস। নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চিতাদের এনে রাখা হয় কুনো জাতীয় উদ্যানে। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (NTCA), মধ্যপ্রদেশ বন দফতর ও ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার (WII) যৌথ উদ্যোগে এগোচ্ছে এই প্রকল্প।
আজ আশার কোলে পাঁচটি নতুন শাবক যেন শুধু প্রাণের জন্ম নয়— এ এক হারানো ইতিহাসকে ফিরে পাওয়ার মৌন অথচ জোরাল গর্জন। কুনোর জঙ্গলের পথে আবার ঘুরে বেড়াচ্ছে চিতার নিঃশব্দ দৌড়ের পদরেখা।