You will be redirected to an external website

‘একদিন ওর পদক্ষেপে পৃথিবী কেঁপে উঠবে’, জলদাপাড়ায় নববর্ষে ভূমিষ্ঠ ‘বিরল’ একশৃঙ্গ গণ্ডার

At the very beginning of 2026, a newborn was born in one of India's most important forests.

জলদাপাড়ায় নববর্ষে ভূমিষ্ঠ ‘বিরল’ একশৃঙ্গ গণ্ডার

২০২৬ সালের একেবারে শুরুতেই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গলে ভূমিষ্ঠ হল এক নবজাতক। অনাবিল আনন্দের খবরে এখন ভাইরাল পশুপ্রেমীরা ছাড়াও কচিকাঁচারাও। ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন, ১ জানুয়ারি— জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে জন্ম নিল ফুটফুটে এক একশৃঙ্গ গণ্ডার। সেই ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে এবং বন্যপ্রাণপ্রেমী মহলে, নতুন করে আশার প্রদীপ জ্বলে ওঠে গণ্ডার সংরক্ষণের পথে। এই হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্যটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ভারতীয় বন দফতরের আধিকারিক প্রবীণ কাসওয়ান। তাঁর শেয়ার করা ছবি ও ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল আনন্দ-উচ্ছ্বাস— নতুন বছরকে স্বাগত জানাল জঙ্গল নিজস্ব ভাষায়।

সংরক্ষণে আশার প্রতীক একশৃঙ্গ গণ্ডার শাবক

জলদাপাড়ায় জন্ম নেওয়া এই একশৃঙ্গ গণ্ডার শাবকটিকেই ২০২৬ সালের প্রথম শাবক বলে মনে করা হচ্ছে। নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে হাতির পিঠে চড়ে টহল দেওয়া বনকর্মীদের একটি দলের প্রথম চোখে পড়ে সদ্যোজাত এই অতিথির প্রতি। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন-এর লাল তালিকায় ‘বিরল’ হিসেবে চিহ্নিত বৃহৎ একশৃঙ্গ গণ্ডারের ক্ষেত্রে এই জন্ম নিঃসন্দেহে এক আশাব্যঞ্জক বার্তা। প্রবীণ কাসওয়ান তাঁর এক্স বার্তা ও ফেসবুক পোস্টে জানান, প্রতিটি নবজাত গণ্ডারকে ঘিরে কীভাবে জলদাপাড়ায় নজরদারি ও বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। শাবক ও তার মায়ের তথ্য নথিভুক্ত করা, গণনা করা এবং জন্মের পর কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিনে বিশেষ নজরদারি, সবটাই নিয়মমাফিক করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে শাবকের ভবিষ্যৎ বেড়ে ওঠা নিয়ে আশাবাদী তিনি। তিনি লিখেছেন, একদিন হাঁটতে শিখবে, আর পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেবে।

হাতির পিঠে নজরদারি ও সংরক্ষণ

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে নবজাত বন্যপ্রাণীদের খোঁজ ও সুরক্ষায় নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রশিক্ষিত বনকর্মীদের হাতির পিঠে টহল ঘন ঘাসজঙ্গল পেরিয়ে সদ্যোজাত প্রাণীদের খুঁজে বার করতে বিশেষভাবে কার্যকর। কাসওয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একশৃঙ্গ গণ্ডারের শাবক সাধারণত জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দাঁড়িয়ে পড়তে এবং হাঁটা শুরু করতে পারে। মায়ের কাছাকাছি থাকা ও শিকারির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই প্রাথমিক সক্ষমতাই তাদের বেঁচে থাকার মূল চাবিকাঠি।

পূর্ব ভারতের গণ্ডার-মহল জলদাপাড়া

উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় অবস্থিত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে এবং তোর্সা নদীর তীরে বিস্তৃত এক অনন্য ঘাসভূমি। আজ এটি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণকেন্দ্র— গুরুত্বের নিরিখে অসমের কাজিরাঙার পরেই যার স্থান।

এখানকার ঘাসজঙ্গল ও নদীবন শুধু গণ্ডার নয়, ভারতীয় হাতি, চিতাবাঘ, হরিণ ও বুনো গরুর মতো বহু বন্যপ্রাণের আশ্রয়স্থল। পূর্ব ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য হটস্পট হিসেবে জলদাপাড়ার পরিচিতি তাই সুপ্রতিষ্ঠিত। কাজিরাঙার বিস্তীর্ণ প্রান্তরের তুলনায় জলদাপাড়ার ভূপ্রকৃতি আলাদা হলেও, সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা ও বনকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এখানকার গণ্ডার সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

AUTHOR :Rima Ghatak

Rima Banerjee is a content writer at Express News, with over 3 years of experience in digital journalism. She holds a Bachelor's degree in Mass Communication from Kazi Nazrul University. Passionate about news and storytelling, Rima is dedicated to delivering accurate, engaging, and timely content that connects with readers across platforms.

Demand for alkaline water is increasing due to health awareness! Know the benefits of this special water Read Previous

স্বাস্থ্য সচেতনতায় বাড়...

The cute nickname is Momo. The good name is Priyanshi. Everyone from young to old on the internet is mesmerized by the birthday celebration of that little girl. Read Next

আদুরে হাতির ছানা মোমোর জ...