বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা
রাঁচিতে সিরিজ (Ranchi Series) শুরুর আগে দু’জন সিনিয়রকে ঘিরে ছিল একগুচ্ছ সন্দেহ। একমাত্র যে ফরম্যাটে তাঁরা খেলেন, সেই ওয়ান ডে দলে ভবিষ্যৎ কী? বিসিসিআইয়ের (BCCI News) নতুন নিয়ম— ঘরোয়া ক্রিকেট খেললে তবেই নির্বাচনযোগ্য। কীভাবে নেবেন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও বিরাট কোহলি (Virat Kohli)? প্রশ্ন ছিল অনেক।
কিন্তু তিন ম্যাচের শেষে সব সংশয় উড়ে গিয়েছে। বদলে ফুটে উঠল পুরনো ঔজ্জ্বল্য, মাঠ জুড়ে রসিকতা আর অবাধ প্রাণখোলা ক্রিকেট।
বিশাখাপত্তনমে শেষ ম্যাচের আগের রাতে টিম হোটেলে কেক কাটার পর যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal) কোহলিকে এক টুকরো দিতে গেলে তিনি বলেন— “আগে রোহিত খাক।” রোহিতের রসিক উত্তর, “এটা খেলে আমি মোটা হয়ে যাব!” মুহূর্তে হাসির রোল উঠে গোটা দলের মধ্যে। এক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট (Indian Cricket Team) যেন ফের ফিরে পেল নিজের স্বাভাবিক ছন্দ।
রাঁচি, রায়পুর বা বিশাখাপত্তনম, যেখানে গেছেন, ভিড় তাঁদের দিকেই নজর রেখেছে। বিমানবন্দরেও শুধু দু’জনকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমেছে। তিনটি ম্যাচই হাউজফুল। এঁরা যে এখনও ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ তারকা— সিরিজ তা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে।
রাঁচি ও রায়পুরে দু'টি চোখ জুড়ানো শতরান। এরপর বিশাখায় ৪৫ বলে অপরাজিত ৬৫ রান। কোহলির ব্যাট বলে দিচ্ছে, চাপ কাটিয়ে তিনি ফিরে এসেছেন নিজের ঢঙে। ম্যাচের শেষে কোহলির (Kohli) বক্তব্য, “গত দু'-তিন বছর এমন স্বাধীন মনে খেলিনি। এখন আবার খেলাটা উপভোগ করছি। পরিস্থিতি যেমনই হোক, সামলানোর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি।”
গত কয়েক মাসে ফিটনেসে রোহিতের কঠোর পরিশ্রমের ফল স্পষ্ট। বিশাখায় তাঁর ডাইভিং সেভ দেখে স্টেডিয়ামের সকলে প্রায় থমকে গেছিল উল্লাসে। কোনও পদবি বা অধিনায়কত্ব ছাড়াই দু’জন সিনিয়রই মাঠে ছিলেন দলের প্রকৃত দিশারি। শুভমান গিল (Shubman Gill), শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) অনুপস্থিত থাকায় তরুণদের পাশে দাঁড়িয়ে দীক্ষা দিয়েছেন রোহিত–কোহলি।
রোহিত বিশেষ করে যশস্বীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে রান তোলার গতি-নিয়ন্ত্রণ শেখান। কুলদীপ যাদবের চার উইকেটের ওভারে রোহিতের পরামর্শই ছিল মূল চালিকাশক্তি। ব্রেভিসকে নিয়ে রোহিতের পূর্বাভাস ঠিক প্রমাণিত হতেই দু’জনের উদ্যাপনে ফুটে উঠেছিল “হুহ, বলেছিলাম তো!”
দু’জনই এখন শুধু ওয়ান ডে খেলেন। বিরতি বড় হওয়ার ফলে প্রস্তুতি কঠিন হলেও অভিজ্ঞতায় সেই শূন্যস্থান পূরণ করছেন তাঁরা। সিরিজ প্রমাণ করেছে— এই ফরম্যাটে তাঁদের জায়গা এখনও প্রশ্নাতীত।
রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলিকে বেশি ঘাঁটালে যে ফল মোটেই ভাল হবে না, সেটা সমালোচকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন রবি শাস্ত্রী। ভারতের প্রাক্তন কোচ সাফ জানিয়েছিলেন, রোহিত এবং কোহলি যদি পাল্টা ঘুরে দাঁড়ান তা হলে সমালোচকদের উবে যেতে এক মুহূর্তও সময় লাগবে না। হয়েছেও তাই।