দামি স্কিনকেয়ার কি সত্যিই ত্বকের জাদু করে?
কমবেশি সকলেই প্রতিদিন নিজের ত্বকের যত্ন করতে ভোলেন না। তবে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট কেনার সময়, বেছে নেওয়ার বেলাতেই আসে সমস্যা। কম দাম থেকে বেশি দাম সব রকমের প্রোডাক্টই মেলে বাজারে। দামি প্রোডাক্ট মানেই কি ভালো? আর কমদামী প্রোডাক্ট গুলো? সোশ্যাল মিডিয়া, সেলিব্রিটি এনডোর্সমেন্ট আর গ্ল্যামারাস বিজ্ঞাপনের জেরে অনেকেই ভাবেন, দামি স্কিনকেয়ার মানেই ম্যাজিক। কিন্তু সত্যিই কি তাই? কী বলছে বিজ্ঞান?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও কসমেটিক বিজ্ঞানীদের মতে, দামি স্কিনকেয়ারের দামের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকে। উন্নত মানের উপাদান (Retinol, Hyaluronic Acid, Niacinamide, Peptides, Ceramides) থাকে দামি প্রোডাক্টে। বহু দামি ব্র্যান্ড ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালায়, দামি প্রোডাক্ট ত্বকে দ্রুত শোষিত হয়, তাই র্যাশ জ্বালা করার সমস্যা কম হয়। তবে অনেকটা দাম বাড়ে লাক্সারি প্যাকেজিং এবং ব্র্যান্ডিংয়ে। Journal of Dermatological Science-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, একই Active Ingredient সঠিক ঘনত্বে থাকলে কমদামি ও দামি প্রোডাক্টের কার্যকারিতার পার্থক্য খুবই কম।
2019 সালের একটু রিপোর্ট অনুযায়ী অনেক সাধারণ ক্রিম দামি ক্রিমের-এর মতোই হাইড্রেশন দিতে সক্ষম।
তাহলে দামি স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টের এর ব্যবহারের প্রয়োজন নেই? না, সেটি একেবারেই বলছেন না বিশেষজ্ঞরা। অভিজ্ঞদের মতে কিছু ক্ষেত্রে দামি প্রোডাক্ট দিয়ে স্কিনকেয়ার সত্যিই উপকারী—
সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে মুখ জ্বালা করবে না, বয়স ধরা রাখার প্রোডাক্টে – stabilized Retinol, প্রোফেশনাল ফর্মুলা পিগমেনটেশন বা ফাইন লাইন নিরাময়ে কাজে লাগে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় ত্বকের ধরন না বুঝে কিনলে, শুধুই দাম দেখে বিশ্বাস করে কিনলে, সেলিব্রিটি ফেস দেখে প্রোডাক্ট কেনার সিদ্ধান্ত নিলে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন দাম নয়, উপাদান দেখুন, নিজের ত্বককে বুঝুন, প্যাচ টেস্ট করুন, নিয়মিত ব্যবহার করুন , সানস্ক্রিনকে কখনও বাদ দেবেন না।