রাজপথে যুদ্ধের ময়দানি ছক দেখাবে ভারত
কেন্দ্রে মনমোহন সিংহ জমানায় একবার রাজস্থানের পাক সীমান্তের কাছে মহড়া দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। তার নাম ছিল অপারেশন ডেসার্ট স্টর্ম (Operation Desert Storm)। সে জন্য সত্যিই যুদ্ধক্ষেত্র। মুহুমুর্হূ ট্যাঙ্ক থেকে গোলা বর্ষণে গোটা মরুপ্রান্তর কেঁপে কেঁপে উঠছিল। প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day) দিল্লির রাজপথে হয়তো তেমন কিছু হবে না, তবে হ্যাঁ অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর এই ২৬ জানুয়ারির (26 January) প্যারেডে ভারতের সামরিক শক্তি ধরা দেবে একেবারে বাস্তব যুদ্ধের ছকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army)–র কুচকাওয়াজে এ বার আর শুধু আলাদা আলাদা বাহিনী নয়—দেখানো হবে কী ভাবে ধাপে ধাপে যুদ্ধক্ষেত্রে এগোয় সেনা। কর্তব্য পথের (রাজপথের নয়া নাম) (Kartavya Path) সেই দৃশ্যই প্রথমবার প্রকাশ্যে দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ।
সূত্রের খবর, কুচকাওয়াজ শুরু হবে রেকনেসেন্স বা নজরদারি পর্ব দিয়ে। উচ্চগতির রেকনেসেন্স যান, ড্রোন, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল—সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর মুহূর্তের প্রস্তুতিই তুলে ধরা হবে। এর পর ধাপে ধাপে যুক্ত হবে লজিস্টিকস, সাপোর্ট ইউনিট এবং ব্যাটল গিয়ারে সজ্জিত সেনা।
নজরদারি থেকে বায়ু সেনা—যুদ্ধের পূর্ণ ছবি
প্রথমেই দেখা যাবে হাই-মোবিলিটি রেকনেসেন্স ভেহিকল, যেগুলিতে থাকবে সার্ভিলেন্স ড্রোন ও ব্যাটলফিল্ড সার্ভিনেন্স রাডার। আকাশে গর্জন তুলবে আপাছে (Apache) এবং লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার প্রচণ্ড (Light Combat Helicopter Prachand)।
এর পর একে একে নামবে ভারী অস্ত্রশস্ত্র—T-90 ট্যাঙ্ক, অর্জুন মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক, BMP-II, নাগ মিসাইল সিস্টেম, আর্টিলারি গান, এয়ার ডিফেন্স প্ল্যাটফর্ম ও ক্ষেপণাস্ত্র। থাকবে রোবোটিক ডগ, আনম্যানড গ্রাউন্ড ভেহিকল, অল-টেরেন ভেহিকল এবং রোবোটিক মিউল।
নতুন কম্যান্ডো ইউনিট
এ বছরের কুচকাওয়াজে বিশেষ আকর্ষণ সেনার প্রাণী বাহিনী—জানস্কার পোনি, ব্যাকট্রিয়ান উট এবং প্রশিক্ষিত কুকুর। ‘উঁচা কদম তাল’-এ পাশাপাশি প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করবে নতুন গঠিত ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়নের (Bhairav light commando battalion)।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, মোট ১৮টি মার্চিং কন্টিনজেন্ট ও ১৩টি ব্যান্ড অংশ নেবে। পুরো যুদ্ধছকভিত্তিক প্রদর্শন চলবে প্রায় ১৫ মিনিট।
আকাশে ফ্লাইপাস্টের চমক
ফ্লাইপাস্টে অংশ নেবে রাফাল (Rafale), সু থার্টি (Su-30), পি-এইট্টি ওয়ান (P-8I), সি-২৯৫ (C-295), মিগ-২৯ ( MiG-29), ও বিভিন্ন ফর্মেশনে এমআই -১৭ ( Mi-17) কপ্টার।
সব মিলিয়ে, অপারেশন সিন্দুর–পরবর্তী প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের বার্তা স্পষ্ট—যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সেনা শুধু শক্তিশালীই নয়, সম্পূর্ণ আধুনিক। এই কুচকাওয়াজ তাই শুধুই উৎসব হবে না, জীবন্ত যুদ্ধমহড়াও দেখা যাবে প্রথম বার।