গঙ্গাসাগর গেলে এবার হবে রাধা-কৃষ্ণ দর্শন
গঙ্গাসাগর মানেই এতদিন পুণ্যস্নান ও কপিল মুনির আশ্রম - এই চিরচেনা পরিচিতির সঙ্গে এবার যুক্ত হতে চলেছে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। খুব শিগগিরই গঙ্গাসাগরের উন্মুক্ত তটভূমিতে ভক্তরা পেতে চলেছেন রাধা-কৃষ্ণের দিব্য দর্শন, তাও আবার ইসকন মন্দিরে। এর ফলে গঙ্গাসাগরের ধর্মীয় ও তীর্থপর্যটনের মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ইতিমধ্যেই গঙ্গাসাগরে ইসকন মন্দির নির্মাণের কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যেই এই মন্দির দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। মন্দিরটি নির্মিত হচ্ছে আধুনিক স্থাপত্য ও ভক্তিমূলক ভাবনার মেলবন্ধনে। অনেকটাই মায়াপুর ইসকন মন্দিরের আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে এই মন্দির, যাতে গঙ্গাসাগরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় আবহের সুন্দর সমন্বয় থাকে।
কেমন হবে মন্দিরের গঠন?
ইসকন সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্দিরের নীচের তলায় থাকবে একটি লাইব্রেরি, যেখানে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবতম-সহ নানা ধর্মীয় গ্রন্থ পড়ার সুযোগ পাবেন। আর উপরের তলায় প্রতিষ্ঠিত হবে রাধা-কৃষ্ণের মূল বিগ্রহ। পুণ্যার্থীরা শান্ত পরিবেশে দর্শন ও প্রার্থনার সুযোগ পাবেন।
শুধু দর্শন নয়, দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের কথা মাথায় রেখে থাকছে থাকার সুব্যবস্থা ও নানা পরিষেবা। ফলে গঙ্গাসাগরে আগত তীর্থযাত্রীদের আর অন্যত্র যেতে হবে না, এক জায়গাতেই মিলবে ভক্তি, বিশ্রাম ও আধ্যাত্মিক শান্তি। এতে করে গঙ্গাসাগরে আগত ভক্তের সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই আশা।
এই মন্দির প্রসঙ্গে শ্রী সুন্দর গোবিন্দ দাস, ইসকন মন্দির প্রেসিডেন্ট (গঙ্গাসাগর) জানিয়েছেন, “এই ইসকন মন্দির গঙ্গাসাগরের সামগ্রিক চেহারা বদলে দেবে। কপিল মুনির আশ্রমের পাশাপাশি রাধা-কৃষ্ণের দর্শন গঙ্গাসাগরকে আরও বড় তীর্থক্ষেত্রে পরিণত করবে। এই মন্দিরই হবে কপিল মুনি আশ্রমের মুকুটে নয়া পালক।”
সব মিলিয়ে বলা যায়, গঙ্গাসাগরের পুণ্যভূমিতে ইসকন মন্দির নির্মাণ নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক সংযোজন। রাধা-কৃষ্ণের দর্শনকে কেন্দ্র করে গঙ্গাসাগরের মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে নয়া পালক, যা আগামী দিনে ভক্ত ও তীর্থযাত্রীদের কাছে হয়ে উঠবে এক নতুন আধ্যাত্মিক আকর্ষণ।