গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা
জীবনকৃষ্ণকে ‘থার্ড লাইন এজেন্ট’ (Third Line Agent) বলে দাবি করলেন তাঁরই আইনজীবী জাকির হুসেন। শনিবার আদালতে তিনি সওয়াল করে জানান, নিয়োগ দুর্নীতিতে ‘আসল’ যাঁরা, তাঁরা জামিন (Bail) পেয়ে গিয়েছেন। জীবন আগেও তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেছেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এদিন জীবনকৃষ্ণকে (Jiban Krishna Saha) বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ইডির (ED) বিশেষ আদালত। ফের তাঁকে আদালতে তোলা হবে ১২ সেপ্টেম্বর।
৬ দিনের ইডি হেফাজত শেষে তাঁকে এদিন যখন আদালতে হাজির করানো হয়েছিল তখন এজলাসেই কেঁদে ফেলেন তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA)। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে ভেঙে পড়েন তিনি। জীবনকৃষ্ণের স্ত্রী এবং ছেলেও এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA)। তারপর তিনি দাবি করেছিলেন যে, তাঁর সম্পত্তি ১০ বছরের ব্যবসার ফল, কিন্তু সেই বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়েই আদালত তাঁকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। প্রসঙ্গত, এর আগে জীবনকৃষ্ণ যখন সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন, তখনও সুপ্রিম কোর্টে জামিন পাওয়ার খবর পেয়ে কেঁদেছিলেন তিনি।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam) গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) কান্দির আন্দি গ্রামে তাঁর বাড়িতে গত সোমবার সকালে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দেখেই পিছনের দরজা দিয়ে পালাতে যান তিনি। এমনকী ধরা পড়ার আগে নিজের মোবাইল ফোনও ঝোপে ফেলে দেন বলে দাবি ইডির।
ইডি সূত্রে জানা যায়, জীবনকৃষ্ণ সাহা মুর্শিদাবাদ ছাড়াও দুই দিনাজপুর, মালদহ ও বীরভূমে চাকরি বিক্রির একটি বিশাল “সাম্রাজ্য” চালাতেন। ১৫ জন এজেন্ট এবং তাদের মাধ্যমে প্রায় ৫০ জন সাব-এজেন্টকে কাজে লাগিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হতো। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে বলে ধারণা ইডি’র। বিধায়ক হওয়ার পর সম্পত্তির পরিধিও বেড়েছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত একের পর এক বেনামি সম্পত্তি কেনা হয়েছে ঘনিষ্ঠদের নামে।
যদিও শনিবার আদালতে তোলার আগে জীবনকৃষ্ণ সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, তিনি মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলেননি। যে সম্পত্তি নিয়ে এত হইচই, সেটা তিনি দশ বছর ধরে ব্যবসা করে তিলে তিলে তৈরি করেছেন।