ইউসুফ বললেন 'আমি এলাকাতেই ছিলাম'
বেলডাঙা (Beldanga Incident) এখনও থমথমে। টানা অশান্তির পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববারও এলাকায় পুলিশের রুটমার্চ চলছে। দু’দিন ধরে উত্তপ্ত বেলডাঙাকে (Beldanga news) ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতরের মধ্যেই উঠে আসে বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের (Yusuf Pathan) অনুপস্থিতির প্রশ্ন। বিরোধীদের কটাক্ষ, অশান্তির সময় তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি। যদিও সেই অভিযোগ মানতে নারাজ সাংসদ নিজে।
অবশেষে তিনি এলেন। এদিন সকাল সকাল বেলডাঙায় দেখা গেল ইউসুফকে। তিনি গিয়ে দেখা করেন নিহত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ইউসুফের সঙ্গে ছিলেন বেলডাঙার বিধায়কও।
এর আগের দিন বহরমপুরে রোড শো করতে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ইউসুফ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বেলডাঙায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে রোড শো ও দলীয় কর্মসূচির কারণে তা তখন সম্ভব হয়নি বলে অভিষেক জানান। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের তরফে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও মৃতের স্ত্রীকে কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এদিন ইউসুফ মাঠে নামতেই নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনিও আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের কথা বলেছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। পরে সাংবাদিকদের ইউসুফ বলেন, “এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পরিযায়ী শ্রমিকেরা শুধু নিজেদের জন্য নয়, যে রাজ্যে কাজ করেন সেই রাজ্যের উন্নয়নেও বড় ভূমিকা নেন। এমন ঘটনা না ঘটাই কাম্য।”
তবে দেরিতে এলাকায় পৌঁছনোর অভিযোগ মানতে চাননি তিনি। ইউসুফের দাবি, তিনি শুরু থেকেই এলাকায় ছিলেন এবং জনপ্রতিনিধি ও বিধায়কেরা পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমে কাজ করে যাচ্ছেন।
বস্তুত, গোটা ঘটনায় এখনও অবধি কমপক্ষে ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। তবে সকাল থেকে শিয়ালদহ-লালগোলার আপ ও ডাউন শাখায় সমস্ত ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে চলেছে বলেই পূর্ব রেলের দাবি। রেলের তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ট্রেন ঠিকমতো চলছে না বলে কিছু বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এটা একেবারেই ভুল। নতুন করে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কও অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি।