শীতের ইনিংস শেষের পথে
চলতি মরসুমে যেন ব্যাট হাতে পুরো ম্যাচটাই খেলেছে শীত। কনকনে ঠান্ডায় বারবার কেঁপে উঠেছে বাংলা (West Bengal)! কলকাতা থেকে দক্ষিণের জেলা, আবার উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলও বাদ যায়নি। উত্তুরে হাওয়ার দাপটে জবুথবু ছিল জনজীবন।
তবে সেই দাপুটে শীতের দৌরাত্ম্য এবার ধীরে ধীরে থামতে চলেছে (Winter Innings)। হাওয়া অফিসের ইঙ্গিত (Weather Update), আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পারদ ঊর্ধ্বমুখী হবে। অর্থাৎ জাঁকিয়ে শীত উপভোগের দিন গোনা শুরু।
কবে বদলাবে আবহাওয়ার রং?
শনিবার ও রবিবার—এই দু’দিন মোটামুটি একই রকম থাকবে আবহাওয়া। সকালের দিকে কনকনে ঠান্ডা, দিনে হালকা শীতের আমেজ—সব মিলিয়ে শীত এখনও টের পাওয়া যাবে। তবে এই পর্বের পরেই বদল আসার সম্ভাবনা।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সোমবার থেকেই ধীরে ধীরে গা-ছাড়া দিতে পারে জাঁকিয়ে শীত। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে এবারের মতো কনকনে ঠান্ডার স্বাদ ফিকে হতে শুরু করবে।
আবহাওয়ার এই বদলের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। কাশ্মীরে সক্রিয় রয়েছে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা, যার জেরে উত্তুরে হাওয়ার জোর অনেকটাই কমে আসবে। এর পাশাপাশি ১৯ জানুয়ারি, সোমবার থেকে আরও একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য দিকে, লাক্ষাদ্বীপ ও সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব সাগর এলাকায়, কেরল উপকূলে তৈরি হয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। এই সব মিলিয়েই বাংলায় উষ্ণতার ইঙ্গিত।
এখনই শীতকে বিদায় জানাতে হচ্ছে না। সোমবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতের রেশ থাকবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মোটামুটি সরস্বতী পুজো পর্যন্ত ঠান্ডার আমেজ উপভোগ করা যাবে। তার পর আরও কিছুটা পারদ চড়তে পারে। পুরোপুরি শীত বিদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। তখনই এবারের মতো ‘বিদায় বন্ধ’ বলে শীত গুটিয়ে নেবে বলেই ইঙ্গিত।
রবিবার পর্যন্ত জাঁকিয়ে শীত থাকবে। কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে সকালের দিকে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হবে। তবে রবিবারের পর থেকেই দিনের সঙ্গে সঙ্গে রাতের তাপমাত্রাও বাড়তে শুরু করবে।
দক্ষিণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উত্তরবঙ্গেও ধীরে ধীরে বাড়বে তাপমাত্রা। সমতলের জেলাগুলিতে কনকনে ঠান্ডা কিছুটা কমবে। তবে পাহাড়ে পারদ বাড়লেও শীতের অনুভূতি থাকবে আরও বেশ কিছু দিন।
শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কুয়াশাও ভোগাচ্ছে। ভোর ও সকালের দিকে বহু জায়গায় দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে। দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। তাই এই সময় রাস্তায় বেরোনোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।